খানসামায় অগ্নিকাণ্ডে ১৭ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, মার্কেট মালিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
খানসামায় অগ্নিকাণ্ডে ১৭ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, মার্কেট মালিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
মো. আজিজার রহমান, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ ব্যবসায়ীর প্রায় ১৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় মার্কেট মালিকের বিরুদ্ধে নিজের দোকানে আগুন লাগানোর অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্তের ভয়ভীতির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন তারা।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বাদী মো. ওয়াকিবুর রহমান রুবেল জানান, উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া (পাঁচপীর) এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী মো. আমির আলীর মালিকানাধীন পাঁচটি দোকানঘরের একটি তিনি এবং দুটি দোকান মো. রশিদুল ইসলাম ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাসিক ভাড়ায় পরিচালনা করে আসছিলেন। একই ভবনের পাশের আরও কয়েকটি দোকানে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. শরিফুল ইসলাম ও মো. মাসুদ রানা বাদশাও ব্যবসা করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিদেশে লোক পাঠানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্তের সঙ্গে কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি নিজের দোকানঘরে আগুন লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আগুন দ্রুত পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকানে থাকা পণ্য, আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ও নগদ মালামাল পুড়ে যায়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
খবর পেয়ে খানসামা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মো. ওয়াকিবুর রহমান রুবেলের প্রায় ৯ লাখ টাকার, মো. রশিদুল ইসলামের ৩ লাখ টাকার, মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ২ লাখ টাকার, মো. শরিফুল ইসলামের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং মো. মাসুদ রানা বাদশার ৫০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। দোকান ভাড়ার সময় জমা দেওয়া ফেরতযোগ্য জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সৌদি প্রবাসী মো. আমির আলী দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খানসামা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবু সায়েম বলেন, “খবর পাওয়া মাত্র আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তদন্ত সাপেক্ষে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাসেত সরকার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স